গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: মোঃ ইয়াদুল ইসলাম।
(১১ এপ্রিল ২০২৬) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা ৩নং ওয়ার্ডে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধের বসতঘর ভাঙচুর, আসবাবপত্র নষ্ট ও ফলজ গাছপালা উপড়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ তৈয়ব আলী মোল্লা (৬০), পিতা- মেনাজ উদ্দিন মোল্লা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন এবং সংশ্লিষ্ট জমিটি তাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিবেশী মোজ্জাম্মেল হাওলাদার ও তার সহযোগীরা হঠাৎ করে জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধের সূত্রপাত ঘটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের কাছে জমির কাগজপত্র উপস্থাপনের কথা বলা হলে তৈয়ব আলী মোল্লা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য কিছু সময় চান। শালিসকারীরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময় দিয়ে বৈঠক স্থগিত করেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শালিস শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মোজ্জাম্মেল হাওলাদার তার লোকজন নিয়ে লাঠিসোঁটা সহ সশস্ত্র অবস্থায় তৈয়ব আলীর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা ঘরের টিন, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পুরো বসতঘর গুঁড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে থাকা বিভিন্ন ফলজ গাছপালাও কেটে ফেলে। অল্প সময়ের মধ্যেই একটি পরিবারকে সম্পূর্ণ বসতহীন করে ফেলা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তৈয়ব আলী মোল্লা বলেন, আমি এখন কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না। আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। তারা আমাকে হুমকি দিয়েছে এই জমি না ছাড়লে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সবকিছু ধ্বংস করে চলে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন আইনের তোয়াক্কা না করে কিভাবে একটি বসতবাড়ি দিনের আলোতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো? একটি অসহায় পরিবারকে রাতারাতি গৃহহীন করে দেওয়ার পেছনে কীসের এত প্রভাব ও শক্তি এমন প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ কামাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই গুরুতর অপরাধ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বর্তমানে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
.png)
রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: মোঃ ইয়াদুল ইসলাম।
(১১ এপ্রিল ২০২৬) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা ৩নং ওয়ার্ডে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধের বসতঘর ভাঙচুর, আসবাবপত্র নষ্ট ও ফলজ গাছপালা উপড়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ তৈয়ব আলী মোল্লা (৬০), পিতা- মেনাজ উদ্দিন মোল্লা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন এবং সংশ্লিষ্ট জমিটি তাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিবেশী মোজ্জাম্মেল হাওলাদার ও তার সহযোগীরা হঠাৎ করে জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধের সূত্রপাত ঘটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের কাছে জমির কাগজপত্র উপস্থাপনের কথা বলা হলে তৈয়ব আলী মোল্লা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য কিছু সময় চান। শালিসকারীরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময় দিয়ে বৈঠক স্থগিত করেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শালিস শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মোজ্জাম্মেল হাওলাদার তার লোকজন নিয়ে লাঠিসোঁটা সহ সশস্ত্র অবস্থায় তৈয়ব আলীর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা ঘরের টিন, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পুরো বসতঘর গুঁড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে থাকা বিভিন্ন ফলজ গাছপালাও কেটে ফেলে। অল্প সময়ের মধ্যেই একটি পরিবারকে সম্পূর্ণ বসতহীন করে ফেলা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তৈয়ব আলী মোল্লা বলেন, আমি এখন কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না। আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। তারা আমাকে হুমকি দিয়েছে এই জমি না ছাড়লে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সবকিছু ধ্বংস করে চলে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন আইনের তোয়াক্কা না করে কিভাবে একটি বসতবাড়ি দিনের আলোতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো? একটি অসহায় পরিবারকে রাতারাতি গৃহহীন করে দেওয়ার পেছনে কীসের এত প্রভাব ও শক্তি এমন প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ কামাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই গুরুতর অপরাধ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বর্তমানে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
.png)
আপনার মতামত লিখুন