গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: মোঃ ইয়াদুল ইসলাম।
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বিজয়পুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ ভাসাই সরদার (৫৫) গত ১১ এপ্রিল বিকাল ৩টা সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার পাশে নেই কোনো স্বজন, নেই দেখভালের মতো কেউ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আর্তনাদ করছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাসাই সরদার প্রায় ৩০ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তার পিতা মৃত মোঃ মইজ উদ্দিন সরদার। একসময় তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন এবং তার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিজমাও ছিল। কিন্তু মাদকাসক্তির কারণে ধীরে ধীরে তিনি তার সব সম্পদ বিক্রি করে দেন।
পারিবারিক জীবনও টেকেনি তার। মাহিলাড়া ভিমেরপাড় গ্রামের এরফান সিকদারের মেয়েকে বিয়ে করলেও বিয়ের মাত্র দুই বছরের মাথায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। এরপর থেকেই তিনি আরও ভেঙে পড়েন এবং মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জমিজমা হারানোর কষ্ট ও নেশার প্রভাবে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ভাসাই সরদারের একমাত্র ছেলে মোঃ রাসেল সরদার থাকলেও তার সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ নেই বললেই চলে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন কখনো রাস্তায়, কখনো হাটে-ঘাটে ঘুরে বেড়ান।
স্থানীয় চাচাত ভাই আশ্রাফ উদ্দিন সরদার ও প্রতিবেশী মালেক হাওলাদার জানান, একসময় ভাসাইয়ের অনেক সম্পদ ছিল। কিন্তু নেশার কারণে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসকরা জানান, তার যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যার প্রয়োজন। তবে পাশে কোনো স্বজন না থাকায় তার চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাসাই সরদারের জন্য প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
.png)
রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: মোঃ ইয়াদুল ইসলাম।
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বিজয়পুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ ভাসাই সরদার (৫৫) গত ১১ এপ্রিল বিকাল ৩টা সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার পাশে নেই কোনো স্বজন, নেই দেখভালের মতো কেউ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আর্তনাদ করছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাসাই সরদার প্রায় ৩০ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তার পিতা মৃত মোঃ মইজ উদ্দিন সরদার। একসময় তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন এবং তার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিজমাও ছিল। কিন্তু মাদকাসক্তির কারণে ধীরে ধীরে তিনি তার সব সম্পদ বিক্রি করে দেন।
পারিবারিক জীবনও টেকেনি তার। মাহিলাড়া ভিমেরপাড় গ্রামের এরফান সিকদারের মেয়েকে বিয়ে করলেও বিয়ের মাত্র দুই বছরের মাথায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। এরপর থেকেই তিনি আরও ভেঙে পড়েন এবং মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জমিজমা হারানোর কষ্ট ও নেশার প্রভাবে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ভাসাই সরদারের একমাত্র ছেলে মোঃ রাসেল সরদার থাকলেও তার সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ নেই বললেই চলে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন কখনো রাস্তায়, কখনো হাটে-ঘাটে ঘুরে বেড়ান।
স্থানীয় চাচাত ভাই আশ্রাফ উদ্দিন সরদার ও প্রতিবেশী মালেক হাওলাদার জানান, একসময় ভাসাইয়ের অনেক সম্পদ ছিল। কিন্তু নেশার কারণে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসকরা জানান, তার যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যার প্রয়োজন। তবে পাশে কোনো স্বজন না থাকায় তার চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাসাই সরদারের জন্য প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
.png)
আপনার মতামত লিখুন