ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার আকার, কাঠামো ও সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এবার ‘ছোট কিন্তু কার্যকর’ মন্ত্রিসভা গঠনের নীতিতে এগোচ্ছে। বর্তমানে ৪৩টি মন্ত্রণালয় থাকলেও তা কমিয়ে ৩০টির নিচে নামানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে একাধিক মন্ত্রণালয় একীভূত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয়কে একত্রিত করার চিন্তা চলছে। দলের লক্ষ্য সরকারকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গতিশীল করা।
নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় থাকবে বলে জানা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে অভিজ্ঞ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবী সংসদ সদস্যদের উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নারীর অংশগ্রহণ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের যেসব নেতা মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন—মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু,
নারী নেতাদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সেলিমা রহমান, শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২ থেকে জয়ী)
তরুণ নেতৃত্বের মধ্যেও কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। যেমন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (লক্ষ্মীপুর সদর), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-৫), ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬)
ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী মিত্র দলের প্রার্থীদের মধ্যেও কয়েকজন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তারা হলেন,
ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১)
এছাড়া মিত্র দলের জয়ী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, আন্দালিভ রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সরাসরি মন্ত্রিসভায় না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, নজরুল ইসলাম খান–কে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত মন্ত্রিসভার তালিকা ও মন্ত্রণালয় বণ্টনের বিষয়টি শপথ অনুষ্ঠানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।