ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আগুন নেভাতে গিয়ে আনসার সদস্যসহ অন্তত ৬ জন অসুস্থ হয়েছেন।মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কর্নারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।অগ্নিকাণ্ডের সময় রোগী স্থানান্তরের মধ্যে পটুয়াখালীর কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরীর আবুল হোসেন (৬৭) মারা যান। স্বজনদের অভিযোগ, অক্সিজেনের অভাবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়ার্ডে রোগীদের ব্যবহারের জন্য রাখা ফোম, বেডশিট ও বালিশসহ দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো তলায়। এতে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় ভর্তি রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হুড়োহুড়ি। অনেকেই রোগীদের কোলে ও স্ট্রেচারে করে দ্রুত নিচে নামিয়ে হাসপাতাল চত্বরে আশ্রয় নেন।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে হাসপাতালের স্টাফ ও স্বজনরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।নিহত কাজী আতাউর রহমানের পুত্রবধূ জানান, তার শ্বশুর দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং সার্বক্ষণিক অক্সিজেন প্রয়োজন ছিল। আগুন লাগার সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামানো হয়। পরে দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি মারা যান। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকেও অক্সিজেন পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে আবুল হোসেনের ছেলে জানান, কয়েকদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা তার বাবাকে আগুনের ঘটনায় স্থানান্তরের সময় আর জীবিত পাওয়া যায়নি।তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত দুই রোগীর অবস্থা আগেই আশঙ্কাজনক ছিল।হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, ভবনের দুটি ইউনিটে প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি ছিল। তাদের নিরাপদে পুরাতন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন আনসার সদস্য ও স্টাফ অসুস্থ হয়েছেন।ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল স্টেশনের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফরী জানান, ফোম ও বেডিং সামগ্রী থাকায় ধোঁয়া বেশি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে সিগারেট বা শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।