ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক নারী গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করতেন। সম্প্রতি বেড়িবাঁধ সংস্কারের কারণে উচ্ছেদ হয়ে পাশেই একটি ঝুপড়িতে বসবাস শুরু করেন। কয়েকদিন ধরে তিনি পাশের বাড়ির আল আমীন মাস্টারের ঘরের বারান্দায় রাত কাটাতেন।
গত ১৭ মার্চ আলমগীরের স্ত্রীর ১২ আনা স্বর্ণ ও ৪ ভরি রুপার গহনা হারানোর ঘটনায় সেলিনাকে সন্দেহ করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে সেলিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সালিশে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তার মাকে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তি নিতে বাধ্য করে। প্রত্যক্ষদর্শীরাও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
তবে সালিশদার সিরাজুল সিকদার নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেলিনাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি, তবে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
অন্যদিকে, চুরি হওয়া গহনার মালিক আলমগীর দাবি করেন, সেলিনা চুরির কথা স্বীকার করেছিলেন এবং রোববার তা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।
পরিবারের দাবি, চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে সেলিনা বেগম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।