মোঃ সুজন শরিফ, বরিশাল গৌরনদী প্রতিনিধি ||
বরিশালের গৌরনদীতে এক সিনিয়র সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে ০৯৬৩৮৫০৫৫৫৬ নম্বর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি জহুরুল ইসলাম জহিরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করেন। কথোপকথনের শুরুতে ওই ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করেন, এমনকি একপর্যায়ে প্রথম আলো-এর সম্পাদক পরিচয়ও দেন। এতে সন্দেহ হলে সাংবাদিক জহির তাকে সুনির্দিষ্ট পরিচয় দিতে বলেন।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি অশ্লীল ও অশোভন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন জহির। ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়।সাংবাদিক নেতারা ওই রাতেই গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তারিখ হাসান রাসেল-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সন্দেহভাজন নম্বরটি ট্রুকলার অ্যাপে যাচাই করা হলে সেখানে এসআই মেহেদী হাসান নামে একটি পরিচয় দেখা যায়। তবে এ তথ্যের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। নম্বরটির প্রকৃত ব্যবহারকারী কে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, বর্তমানে আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রু আছে বলে মনে হয় না। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে আমাকে এমন অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিলো, তা বুঝতে পারছি না। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।ঘটনার প্রতিবাদে গৌরনদী প্রেসক্লাব, গৌরনদী সাংবাদিক ফোরাম এবং মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের নেতারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় সচেতন মহলও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের হুমকি ও হয়রানির ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।