ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
রাজধানীর শাপলা চত্বর-এ ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত বহুল আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন-এর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাকে মামলার আসামি করা হতে পারে।বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আমিনুল ইসলাম, যিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ওই দিনের অভিযানে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্যের ভূমিকা নিয়ে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে।প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে আমরা ধাপে ধাপে প্রমাণ সংগ্রহ করছি। ইতোমধ্যে কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলায় সম্ভাব্য আসামিদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে সাবেক আইজিপিসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হতে পারে।প্রসিকিউশন পক্ষ আরও জানায়, এ মামলায় কোনো ধরনের প্রভাব বা রাজনৈতিক চাপকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। অপরাধের সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এমন কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত সহিংস ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে হতাহতের ঘটনা নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই মামলার অগ্রগতি দেশের বিচারব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।