ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় একটি সরকারি কলেজে ইসলামী জলসা ও মসজিদের অনুদান চাওয়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরোধের জেরে শিক্ষিকার ওপর হামলা, জুতাপেটা, পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ আক্রমণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. এজদার এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা স্থানীয় একটি মসজিদের উন্নয়ন কাজ ও আসন্ন ইসলামী জলসার জন্য অনুদান দাবি করেন এবং দাওয়াত কার্ড প্রদান করেন।এ সময় কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন পুরো ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিএনপি নেতারা ভিডিও ধারণে আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা দ্রুত তীব্র বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়।এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন বিএনপি নেতা আফাজ উদ্দিনকে চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আফাজ উদ্দিন। তিনি নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে ওই শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করেন এবং তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি শিক্ষিকার চুল ধরে টেবিলের ওপর চেপে ধরে মারধর করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর আফাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় কলেজে প্রবেশ করেন। সে সময় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলমান ছিল। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ১৪৪ ধারা অমান্য করে কলেজ প্রাঙ্গণে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলা করে।হামলায় কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অধ্যক্ষ ও আলিয়া খাতুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, হামলার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশে উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে তাণ্ডব চালাতে সক্ষম হয়।এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইসলামী জলসার দাওয়াত দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।ঘটনার পর থেকে দাউকান্দি কলেজসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।