ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকসহ ১৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিকট শব্দে পৃথক দুটি বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে মুহূর্তেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চরএকরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বজ্রপাত আঘাত হানে। এতে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে এবং ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ আট শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।আহত শিক্ষার্থীরা হলো সপ্তম শ্রেণির জান্নাত বেগম, ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা বেগম, সুমাইয়া বেগম; অষ্টম শ্রেণির মীম আক্তার এবং নবম শ্রেণির আফরোজ আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।আহত শিক্ষার্থী দোলা জানায়, “হঠাৎ বিকট শব্দে স্কুলের ওপর বজ্রপাত পড়ে। স্যারসহ আমরা কয়েকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই অজ্ঞান হয়ে যাই।একই সময়ে আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। সেখানে বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে আরও আট শিক্ষার্থী আহত হয়। বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য বাহাদুর মৃধা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন ফকির জানান, বজ্রপাতের তীব্র শব্দে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল কাদের জানান, দাদপুর বিদ্যালয়ের আটজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে কেউ গুরুতর আহত নয়। বজ্রপাতের প্রচণ্ড শব্দে তারা মূলত আতঙ্কজনিত ‘শক’-এ আক্রান্ত হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছে।এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, কালবৈশাখী মৌসুমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে।