ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা কিংবা ন্যায়বিচারবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডকে সরকার কখনো তামাদি হতে দেবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘শাপলার শহীদ গাঁথা’ শীর্ষক স্মরণসভা ও ‘শহীদনামা’ শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাপলা স্মৃতি সংসদ।তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, বিরোধী দলের সমাবেশে হামলা এবং শাপলা চত্বরের অভিযানের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই পরবর্তীতে জাতীয় ঐক্যে রূপ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি অভিযোগ করেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সরকারি গণমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদ ইতোমধ্যে শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানিয়েছে, যা সরকারের দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, ১৯৫২, ১৯৬৯, শাপলা কিংবা জুলাই সব আন্দোলনের সম্মিলিত ফলাফলই আজকের বাংলাদেশ।ধর্মীয় মূল্যবোধ, সার্বভৌমত্ব ও স্বনির্ভরতার প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি সামাজিক শক্তির ঐক্য ছাড়া কোনো বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। একটি রাজনৈতিক দল তখনই সফল হয়, যখন সেটি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মাওলানা জালাল উদ্দীন, আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী এবং সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন প্রমুখ।অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার পাশাপাশি তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।