ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
ঢাকা, বুধবার: দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই বৃহৎ প্রকল্পটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজসহ মোট ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরের এটি ছিল ১১তম এবং বিএনপি সরকারের তৃতীয় একনেক সভা।বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক ‘মাস্টারমাইন্ড’ প্রকল্প হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। বিশেষ করে ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।জানা গেছে, ১৯৬০-এর দশক থেকেই পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি উঠে আসছিল। ১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু শাখা নদী শুকিয়ে যায় বা বিলীন হয়ে পড়ে। ফলে ওই অঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে দুই দেশের যৌথ কমিশন কাজ করছে।মন্ত্রী আরও জানান, আগামী জাতীয় বাজেট পাসের পরপরই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।