ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিবছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও লুটপাটের অর্থনীতিকে পুনরায় স্বাবলম্বী করতে আরও অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে এই সংকটময় সময়ে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।তিনি আরও বলেন, দেশের রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের তুলনায় আমদানিতে অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আসমান থেকে টাকা আসবে না। কঠোর পরিশ্রম, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমেই অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হবে।তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটারবিহীনভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী গোষ্ঠী জনগণের মধ্যে বিভাজন ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই ভয়ের সংস্কৃতি দূর করে ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক বিতর্ক অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদের বিতর্ককে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় পোশাকধারীদের অতীতে সন্দেহের চোখে দেখা হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে আলেম-ওলামাদের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।তিনি বলেন, আগামী দুই বছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা না গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে অতীতে পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও ঘটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা যারা পবিত্র ধর্মে বিশ্বাস করি, তারা অন্য সব ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাসকেও শ্রদ্ধা করি। হাজার বছর ধরে এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। কোনো অপশক্তি যেন সেই ঐক্য বিনষ্ট করতে না পারে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক এবং হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।