ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
সাতলা- উজিরপুর, বরিশাল পশ্চিম সাতলা ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত “মায়ের দোয়া ক্লিনিক” পরিচালনায় ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম। রোগীদের স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং দালাল ও কমিশননির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি দাবি করেছেন, রোগীদের ভিজিট ফ্রি, ওষুধে ২০ শতাংশ ছাড় এবং বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন তিনি।রোববার (১৭ মে ২০২৬) এক বক্তব্যে ডা. রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতাল কমিশনভিত্তিক রোগী সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দালাল, গ্রাম ডাক্তার ও বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে রোগী এনে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে সাধারণ রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় এবং অনেক সময় তারা সঠিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হন বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন আমরা কোনো দালাল বা কমিশনের মাধ্যমে রোগী ভর্তি করাই না। যারা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন, তারা সুস্থ হয়ে অন্যদের পরামর্শ দেন। রোগীদের আস্থা ও ভালোবাসাই আমাদের বড় শক্তি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল এটি মেনে নিতে পারছে না। তাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।ডা. রেজাউল করিম আরও বলেন বর্তমানে চিকিৎসা খাতে একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। কিছু ব্যক্তি শুধুমাত্র কমিশনের আশায় রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে থাকেন। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে এবং অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।তিনি বলেন আমি কাউকে কোনো পার্সেন্টেজ বা কমিশন দিই না। তাই কিছু মানুষ আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ আমার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া এবং তাদের চিকিৎসা ব্যয় কমানো।তিনি জানান তার প্রতিষ্ঠানে রোগীদের আর্থিক অবস্থার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীরা যেন কম খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন আধুনিক চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।ডা. রেজাউল করিম বলেন অনেক রোগী শুধুমাত্র অর্থের অভাবে ভালো চিকিৎসা নিতে পারেন না। আমরা চেষ্টা করছি স্বল্প খরচে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে। আমি চাই রোগী যেন সঠিক চিকিৎসা পায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।এ সময় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসা সনদ নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে এমবিবিএস সার্টিফিকেট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।তিনি বলেন আমার সার্টিফিকেট কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিনের ওপর। আমি এলোপ্যাথিক ওষুধ লিখি না। ন্যাশনাল মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এনএমএ) থেকে প্রাপ্ত নিবন্ধনের আওতায় আমি কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিনের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। তাই আমি বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নিইনি।তিনি আরও বলেন আইন ও নিয়ম মেনেই তিনি চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন এবং জনগণের সেবা করাই তার মূল উদ্দেশ্য। যারা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন কেউ যেন না বুঝে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায় না। আগে আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেওয়া উচিত।স্থানীয় কয়েকজন রোগীও জানান তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কারণে অনেক মানুষ ডা. রেজাউল করিমের কাছে চিকিৎসা নিতে আসছেন। বিশেষ করে ওষুধ ও পরীক্ষায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে তারা জানান।