মোঃ সুজন শরিফ, বরিশাল গৌরনদী প্রতিনিধি ||
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের এক তরুণের অসাধারণ উদ্ভাবনী কাজ এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে। শৈশবের স্বপ্ন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের হাতেই তৈরি করেছেন বরিশালের জনপ্রিয় দুটি লঞ্চের বাস্তবধর্মী ডেমো পারাবত-১২” ও “এম খান-৭”। এই ব্যতিক্রমী কাজের কারিগর তরুণ উদ্ভাবক মোঃ মেহেদী হাসান।ছোটবেলা থেকেই বরিশালের নদীপথে চলাচল করা দৃষ্টিনন্দন লঞ্চগুলোর প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। বিশেষ করে নদীর বুকে ছুটে চলা বড় বড় লঞ্চ দেখে মনে হতো, একদিন যদি সেগুলোর ছোট্ট বাস্তবসম্মত প্রতিরূপ নিজের হাতে তৈরি করা যেত! সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যায় এক অন্যরকম সৃজনশীল জগতে।দীর্ঘদিনের ধৈর্য, অধ্যবসায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমের পর প্রথমে তিনি তৈরি করেন “পারাবত-১২” লঞ্চের ডেমো। সম্পূর্ণ লঞ্চটি তৈরি করতে তার সময় লাগে প্রায় ছয় মাসেরও বেশি। কাঠ, প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও নিজস্ব কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে ধাপে ধাপে তিনি গড়ে তোলেন লঞ্চটির নিখুঁত অবয়ব। বাস্তবের লঞ্চটির প্রতিটি অংশ যেন ছোট আকারে জীবন্ত হয়ে উঠেছে তার হাতে।এরপর গত বছরের ঈদে বাস্তবে “এম খান-৭” লঞ্চটি বরিশালে আসার পর নতুন করে অনুপ্রাণিত হন মেহেদী। আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাত্র এক মাসের মধ্যেই তৈরি করে ফেলেন “এম খান-৭” ডেমো লঞ্চটি। এত কম সময়ে এমন নিখুঁত কাজ দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।ডেমো লঞ্চ দুটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী যন্ত্রাংশ। রয়েছে ১২ ভোল্টের শক্তিশালী ব্যাটারি, যা প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। এছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে ১২ ভোল্টের হাই-স্পিড দুটি মোটর, যা পানিতে লঞ্চগুলোকে বাস্তবের মতো চলাচল করতে সহায়তা করে।সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, লঞ্চগুলো পরিচালনার জন্য রয়েছে উন্নত মানের রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেম। প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এই ডেমো লঞ্চগুলো। শুধু রিমোট কন্ট্রোলটির দামই প্রায় পাঁচ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি।মেহেদী হাসান জানান, তিনি চেষ্টা করেছেন বাস্তবের “পারাবত-১২” ও “এম খান-৭” লঞ্চের আদল হুবহু ফুটিয়ে তুলতে। প্রতিটি ছোট-বড় ডিজাইন, রঙ, আকৃতি ও গঠন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তৈরি করেছেন তিনি। প্রতিটি ডেমো লঞ্চ তৈরিতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকারও বেশি।স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামের একজন তরুণের এমন সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইতোমধ্যে তার তৈরি লঞ্চের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে বরিশালের নৌ-ঐতিহ্যের এক অনন্য উপস্থাপন বলে অভিহিত করছেন।তরুণ উদ্ভাবক মেহেদী হাসানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি প্রমাণ করে গ্রামবাংলার তরুণদের মধ্যেও লুকিয়ে আছে অসীম মেধা ও সম্ভাবনা। সঠিক সুযোগ ও উৎসাহ পেলে তারাও দেশকে নতুন কিছু উপহার দিতে পারে।