মোঃ ইয়াদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার ||
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সুন্দরদী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রহিম ঘরামী অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে জমি সংক্রান্ত মামলা মোকাবিলা করে আদালত থেকে তার পক্ষে রায় পেলেও এখনো তিনি তার জমির দখল বুঝে পাননি। একই সঙ্গে নিজের জমির গাছ বিক্রির প্রায় ২ লাখ টাকাও তিনি পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন।
৮ জুন ২০২৬ ভুক্তভোগী রহিম ঘরামী জানান, তার পিতা মৃত সোবহান ঘরামীর রেখে যাওয়া প্রায় ১ একর ১৪.৫ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে বিভিন্ন আদালতে মামলা চলার পর সম্প্রতি তিনি বরিশালের আদালত থেকে তার পক্ষে রায় লাভ করেন। আদালতের রায়ে সকল মামলা খারিজ হলেও এখনো তিনি জমির প্রকৃত দখল বুঝে পাননি বলে অভিযোগ করেন।
রহিম ঘরামী বলেন, এটা কেমন নিয়ম? আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছেন, কিন্তু আমি এখনো আমার জমি বুঝে পাইনি। আমার জমির গাছ বিক্রি করেছি, কিন্তু সেই টাকাও আমাকে দেওয়া হচ্ছে না। আমি বিনয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ করছি, আমার জমি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হোক এবং গাছ বিক্রির টাকা ফেরত দেওয়া হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাছ বিক্রির প্রায় ২ লাখ টাকা একই গ্রামের বলু সরদারের ছেলে মানিক সরদারের কাছে জমা রয়েছে।
এ বিষয়ে মানিক সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমির ভাগিদার ও সালিশগণ আমাকে টাকা দিতে নিষেধ করেছেন। তাই আমি এখন পর্যন্ত টাকা প্রদান করিনি।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায় পাওয়ার পরও বিবাদী হারিস ও কামাল ওই জমিতে দখল বজায় রেখেছেন। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তারা জমির একটি অংশে বসতঘর নির্মাণ করলেও সেখানে নিয়মিত বসবাস করেন না।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আদালতের রায় কার্যকর এবং জমির প্রকৃত মালিককে দখল বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী রহিম ঘরামী। তিনি আইন অনুযায়ী তার জমি ও গাছ বিক্রির অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।