পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার এগিয়ে বিজেপি, সরকার গঠনের পথে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় প্রথমবারের মতো বড় জয় পেতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৩টি আসনের মধ্যে দলটি প্রায় ২০০ আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৮৭টি আসনে। এছাড়া বামজোট পেয়েছে ২টি আসনে এগিয়ে থাকার তথ্য।সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত গণনা করা ভোটের ভিত্তিতে এ চিত্র পাওয়া গেছে। তবে কোন আসনে কত শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১৪৮টি আসন।নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ২৯৩টি আসনের ফল গণনা চলছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যজুড়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকাল ৮টা থেকে কলকাতাসহ ২৩টি জেলার ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়।বিশেষ করে দ্বিতীয় দফার ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকায় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ ছিল না। এ কারণে ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে পুরো রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য এত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগে দেখা যায়নি। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর দল বিজেপি সরকার গঠন করতে পারে কিনা, নাকি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয় তৃণমূল কংগ্রেস।নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখতে নির্বাচন কমিশন মোট ৪৩২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়। এছাড়া ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তর ২৪ পরগনায় সর্বাধিক ৪৯ জন গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, আর সবচেয়ে কম রয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলায়।সহিংসতা, ইভিএম কারচুপি এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সব বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।(সূত্র: আনন্দবাজার)