গৌরনদীতে ভ্যান চালক মঞ্জু বেপারী হ/ত্যা, খু-নি-দের গ্রে/প্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
বরিশালের গৌরনদীতে নিরীহ ভ্যান চালক মঞ্জু বেপারী (৫০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।“কাসেমাবাদ-হরিসেনাবাসী” ব্যানারে আয়োজিত এ বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অবরোধের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় ৩০ মিনিট পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।বিক্ষোভ চলাকালে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে ধীরগতির কারণে প্রকৃত অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।গ্রামবাসীরা আরও বলেন, মঞ্জু বেপারী ছিলেন অত্যন্ত নিরীহ ও পরিশ্রমী একজন মানুষ। ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে পরিবার চালাতেন তিনি। এমন একজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।কাসেমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে অল্প সময়ের মধ্যে যদি খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে এলাকাবাসী আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।তিনি আরও বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাসেমাবাদ এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে ভ্যান চালক মঞ্জু বেপারী নিজ বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ইয়াসিন খানের বাড়ি সংলগ্ন নির্জন সড়কে তার পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।তার ডাকচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার এতদিন পরও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে পুরো এলাকা।