ঢাকা   শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা   শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Today বাংলা নিউজ

কবে কমবে লোডশেডিং জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ

২৪ এপ্রিল দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে লোডশেডিং কবে কমবে, সে বিষয়ে আশার খবর দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কিছু বিদ্যুৎ ইউনিট উৎপাদনে যুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, “আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে আদানির দ্বিতীয় ইউনিট, এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের একটি ইউনিট চালু হলে প্রায় ১,৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। তখন লোডশেডিং অনেকটাই কমে আসবে।”তিনি জানান, বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গরমের কারণে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সে অনুযায়ী বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পিক আওয়ারে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।উম্মে রেহানা বলেন, সরকার কৃষি সেচ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বিশেষ করে চলমান বোরো মৌসুমে ধান পাকার সময় হওয়ায় আগামী দুই সপ্তাহ সেচে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।তিনি আরও জানান, শিগগিরই শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বণ্টনের ভারসাম্য আনা হবে।লোডশেডিং বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট ট্রিপ করায় উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও কয়লা আমদানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।গ্যাস সংকটও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও প্রয়োজনীয় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৯২ কোটি ঘনফুট। ফলে এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন ৬ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।তিনি বলেন, যদি দৈনিক অন্তত ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যেত, তাহলে প্রায় ৭,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো।বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যর্থতা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উম্মে রেহানা দাবি করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।সামগ্রিকভাবে, নতুন ইউনিট উৎপাদনে যুক্ত হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ওপরই এখন লোডশেডিং কমার বিষয়টি নির্ভর করছে।

কবে কমবে লোডশেডিং জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ