বরিশালে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরের ঘণ্টায় তা থাকছে না দিন-রাত একই চিত্র বিরাজ করছে পুরো নগরীতে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও।
নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ছে ব্যাপকভাবে। বিদ্যুৎ নির্ভর সিটি করপোরেশনের পানি উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ারগুলোতেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থার আশঙ্কা। ফলে নগরীতে খাবার পানির সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, সে অনুযায়ীই বিতরণ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তারা।
বুধবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আর্দ্রতার কারণে তা অনুভূত হয়েছে প্রায় ৪৪ ডিগ্রির মতো। এই তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। সন্ধ্যার পর এবং গভীর রাতেও লোডশেডিং অব্যাহত থাকছে।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বিভিন্ন সাবস্টেশনে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও চাহিদার অর্ধেক, আবার কখনো এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
নগরীর রূপাতলী সাবস্টেশনে যেখানে চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৫১ মেগাওয়াট। একইভাবে পলাশপুর সাবস্টেশনেও চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বাজার, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দোকান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে, ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশ থাকায় গ্রামাঞ্চলে টানা ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রামীণ জনজীবনও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় পানি উত্তোলন পাম্পগুলো স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে পানির রিজার্ভার পূর্ণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে মোবাইল অপারেটরদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় টাওয়ারে ব্যবহৃত আইপিএসগুলো পর্যাপ্ত চার্জ নিতে পারছে না। ফলে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে জনজীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
.png)
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বরিশালে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরের ঘণ্টায় তা থাকছে না দিন-রাত একই চিত্র বিরাজ করছে পুরো নগরীতে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও।
নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ছে ব্যাপকভাবে। বিদ্যুৎ নির্ভর সিটি করপোরেশনের পানি উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ারগুলোতেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থার আশঙ্কা। ফলে নগরীতে খাবার পানির সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, সে অনুযায়ীই বিতরণ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তারা।
বুধবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আর্দ্রতার কারণে তা অনুভূত হয়েছে প্রায় ৪৪ ডিগ্রির মতো। এই তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। সন্ধ্যার পর এবং গভীর রাতেও লোডশেডিং অব্যাহত থাকছে।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বিভিন্ন সাবস্টেশনে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও চাহিদার অর্ধেক, আবার কখনো এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
নগরীর রূপাতলী সাবস্টেশনে যেখানে চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৫১ মেগাওয়াট। একইভাবে পলাশপুর সাবস্টেশনেও চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বাজার, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দোকান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে, ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশ থাকায় গ্রামাঞ্চলে টানা ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রামীণ জনজীবনও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় পানি উত্তোলন পাম্পগুলো স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে পানির রিজার্ভার পূর্ণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে মোবাইল অপারেটরদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় টাওয়ারে ব্যবহৃত আইপিএসগুলো পর্যাপ্ত চার্জ নিতে পারছে না। ফলে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে জনজীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন